পিঁপড়া পালন

একটি পোলিশ বাঙ্কারে এক মিলিয়ন রানীহীন পিঁপড়া

পিঁপড়ের একটি গল্প আমার মনে বিশেষভাবে গেঁথে গেছে। ২০১৩ সালে পোল্যান্ডের Polish Academy of Sciences-এর একটি দল পোল্যান্ডের Templewo-তে একটি প্রাক্তন সোভিয়েত পারমাণবিক অস্ত্র গুদামে ঢুকেছিল। গবেষকরা বাদুড় গোনার জন্য গিয়েছিলেন, কিন্তু তার বদলে একটি পিঁপড়ার কলোনি খুঁজে পান।

সেখানে প্রায় দশ লাখ বন-পিঁপড়ার (Formica polyctena) শ্রমিক বাস করত, আর চারপাশে কয়েক মিলিয়ন মৃতদেহ পড়ে ছিল। সেখানে কোনো রানী ছিল না, পুরুষ ছিল না, ডিম বা লার্ভাও ছিল না। বাঙ্কারের ওপরের বাসাটি একটি উল্লম্ব ভেন্টিলেশন শ্যাফটের ওপর তৈরি ছিল। মরচে ধরে জীর্ণ হয়ে সেটি একটি ট্র্যাপডোরে পরিণত হয়েছিল, যার ভেতর শ্রমিক পিঁপড়েরা পড়ে যেত এবং ওপরে ফেরার কোনো পথ পেত না।

তাপমাত্রা কখনো ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের বেশি উঠত না, আর বাইরে থেকে কোনো খাবার আসত না। পেটে কামড়ের চিহ্ন দেখে বোঝা যায়, শ্রমিকরা তাদের মৃত সঙ্গীদের খেয়ে বাঁচত, আর প্রতি বছর পড়ে যাওয়া নতুন শ্রমিকরা জনসংখ্যা টিকিয়ে রাখত।

২০১৬ সালে গবেষকরা একটি কাঠের সেতু বসান। কয়েক মাসের মধ্যে আটকে পড়া প্রায় সব পিঁপড়া উঠে এসে তাদের মূল কলোনিতে ফিরে যায়, এবং তাতে কোনো আক্রমণাত্মকতা ছিল না।

যারা পিঁপড়া পোষেন, তাদের জন্য এটি একটি চমৎকার মনে করিয়ে দেওয়া: বাইরে থেকে নিয়মিত সরবরাহ পেলে রানীহীন কলোনিও বছরের পর বছর টিকে থাকতে পারে। ঘটনাটি আমার কাছে একই সঙ্গে বিষণ্ণ এবং খুবই শিক্ষণীয় মনে হয়েছে।

সূত্র: Sciencepost

মন্তব্য 0

যেকোনো ভাষায় প্রথম মন্তব্যটি করুন।

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন