সাম্প্রতিককালে আমি ছোট আকারের বনসাই টেরারিয়ামের প্রতি আকৃষ্ট হয়েছি। এটি ঐতিহ্যবাহী বনসাই শিল্পের সঙ্গে আধুনিক টেরারিয়ামের একটি মিশ্রণ—একটি ছোট বাস্তুতন্ত্র যা কাঁচের পাত্রে স্থাপন করা হয়, যা দেখতে সুন্দর এবং খুব বেশি জায়গা নেয় না। বেশ কিছু সময় ধরে এটি নিয়ে কাজ করার পর, আমি কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় শিখেছি যা আমি নতুনদের সাথে শেয়ার করতে চাই।
প্রথমত, গাছের নির্বাচন। সব গাছ আবদ্ধ পরিবেশের জন্য উপযুক্ত নয়। আমি মনে করি ফিকাস (ছোট আকারের বট গাছ) একটি চমৎকার পছন্দ, কারণ এর কাণ্ড সুন্দর, পাতা ছোট এবং এটি আর্দ্রতা সহ্য করতে পারে। জেড প্ল্যান্ট (পান্না গাছ) শুধুমাত্র খোলা টেরারিয়ামের জন্য উপযুক্ত, যেখানে মেই চিয়াও শুই (জলপাই গাছ) আবদ্ধ পাত্রের জন্য ভালো। ক্যাকটাস এবং অন্যান্য রসালো গাছ আবদ্ধ পাত্রে রাখা উচিত নয়, কারণ তাদের শুকনো পরিবেশ প্রয়োজন।
মাটির স্তর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এটিকে অবহেলা করা উচিত নয়: একেবারে নিচে ৩-৪ সেন্টিমিটার পুরুত্বের নুড়ির একটি স্তর থাকবে, তারপর অ্যান্টিব্যাকটেরিয়াল কার্বন, একটি জাল কাপড় যা স্তরগুলোকে আলাদা করে, এরপর ৮-১২ সেন্টিমিটার পুরুত্বের মাটি এবং সবশেষে মস। নতুনদের সবচেয়ে বড় ভুল হলো নিষ্কাশন স্তরটি বাদ দেওয়া অথবা অতিরিক্ত জল দেওয়া—টেরারিয়াম সাধারণত প্রাকৃতিকভাবে আর্দ্রতা ধরে রাখে, তাই আবদ্ধ পাত্রে প্রতি মাসে ১-২ বার জল দেওয়া যথেষ্ট।
যত্নের ক্ষেত্রে, আমি পাত্রটি এমন জায়গায় রাখি যেখানে সরাসরি সূর্যের আলো পৌঁছায় না (পূর্ব বা উত্তরমুখী জানালা উপযুক্ত), কারণ কাঁচের মাধ্যমে আসা তীব্র আলো গাছের পাতা পুড়িয়ে দিতে পারে। প্রতি সপ্তাহে ৩০-৬০ মিনিটের জন্য পাত্রের ঢাকনা খোলা উচিত, যাতে বাতাস চলাচল করতে পারে এবং কোনো ছত্রাক বা রোগ আছে কিনা তা পর্যবেক্ষণ করা যায়। হালকাভাবে নিয়মিত ছাঁটাই করা ভালো, কারণ বেশি পরিমাণে একসাথে ছাঁটাই করলে গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
সত্য কথা বলতে, সবচেয়ে আকর্ষণীয় বিষয় হলো চূড়ান্ত ফলাফল নয়, বরং প্রতিদিন সেই ছোট বাগানটিকে জীবন্ত হতে এবং পরিবর্তিত হতে দেখা।
সূত্র: InBonsai
কেউ কেউ গাছটির কাণ্ড দেখে কেনে, আর নার্সারি থেকে আনা এই জুনিপার তার ভালো উদাহরণ। Bonsai Empire ছয় বছরের এমন একটি গাছের কাজের বিবরণ দিচ্ছে, যেটি কেনার সময় প্রায় ২০ বছর বয়সী ছিল এবং উপাদান গড়ে তুলতে নার্সারিতে ইতিমধ্যে প্রায় দশ বছর বেড়ে উঠেছিল। দাম পড়েছিল প্রায় ২০০ ডলার, যা একটি বড় বিনিয়োগ, এবং লেখকরা মনে করেন কাণ্ডের পুরুত্ব ও গতিই এর যথার্থতা প্রমাণ করে।
প্রথম স্টাইলিং ছিল সবচেয়ে আক্রমণাত্মক। অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া একটি ডাল কেটে ফেলে তার জায়গায় আরও নমনীয় নতুন ডাল রাখা হয়েছিল, আর গাছটি সুস্থ থাকায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পাতা ছাঁটা হয়েছিল। এরপর ঝুলে থাকা কচি ডালগুলো পরিষ্কার করা হয়, একই পুরুত্বের ডালগুলো জোড়ায় জোড়ায় মেলানো হয় এবং মূল ডাল থেকে ডগার দিকে তার জড়ানো হয়, সরু ডালে সরু তার ব্যবহার করে।
টব বদলানোর সময় নিষ্কাশন ছিদ্রগুলো জাল দিয়ে ঢাকা হয় এবং গাছকে স্থির রাখতে দুটি লম্বা তার বাঁধা হয়। নার্সারির জৈব মাটির কিছুটা এবং কিছু পুরনো, কালচে শিকড় সরানো হয়, আর মিশ্রণে ছিল আকাদামা, আগ্নেয় পাথর ও প্যুমিস। পুরনো মাটি কয়েকবার টব বদলানোর মাধ্যমে ধীরে ধীরে বদলানো হয়, যাতে শিকড়ে চাপ না পড়ে।
দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বছরে বছরে দুবার হালকা ছাঁটাই ছাড়া প্রায় কিছুই করা হয়নি। পঞ্চম বছরে ছোট ডাল ও কোণ নিয়ে দ্বিতীয় স্টাইলিং হয় এবং আরেকবার টব বদলানো হয়। আজ গাছটি প্রায় সম্পূর্ণ, পাতার গুচ্ছগুলো আরও ঘন।
আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে এই ভাবনাটি যে বনসাইয়ের কোনো নির্দিষ্ট লক্ষ্য থাকে না, প্রতি ঋতুতে তাকে একটু একটু করে মার্জিত করা হয়। একটি মজার বিষয় হলো ভিডিওর শিরোনামে ২৬ বছরের কথা আছে, যার মধ্যে সম্ভবত নার্সারির বছরগুলোও ধরা হয়েছে।
সূত্র: Bonsai Empire
কোকেদামা একটি জাপানি কৌশল, যা বাগানচর্চা ও হস্তশিল্পকে একত্র করে: শ্যাওলায় ঢাকা মাটির একটি বলের ভেতরে টবের বদলে গাছ বেড়ে ওঠে। JardineriaOn বাড়িতে একটি বানানোর একটি নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে।
গাছ বাছাইয়ের ক্ষেত্রে ধীরে বাড়ে এমন প্রজাতির পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, যাদের বারবার পুনঃরোপণের প্রয়োজন হয় না, এবং যারা ছায়া বা আধা-ছায়া পছন্দ করে, যাতে রোদে শ্যাওলা না পোড়ে। সুপারিশকৃত বিকল্পের মধ্যে আছে ফার্ন, সক্কুলেন্ট, অর্কিড ও বনসাই।
উপকরণ হিসেবে লাগবে সাধারণ টবের মাটি, পিট বা কেঁচো-সার, আকাদামা (একধরনের জাপানি আগ্নেয় মাটি, যা আর্দ্রতা ধরে রাখে; এর বদলে ২৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা গুঁড়ো করা টালি বা ইট ব্যবহার করা যায়), স্ফ্যাগনামের মতো শ্যাওলা, মাছ ধরার সুতা বা দড়ি, কাঁচি, স্প্রেয়ার এবং একটি বড় পাত্র।
প্রক্রিয়াটি শুরু হয় মাটি ও আকাদামা পানির সঙ্গে মিশিয়ে একটি জমাট ডেলা বানানোর মাধ্যমে। মাঝখানে গর্তসহ একটি বল তৈরি করে গাছের শিকড় ভালোভাবে ঢেকে তাকে বসানো হয়, এবং শেষে পুরো বলটি শ্যাওলা দিয়ে মোড়ানো হয়। নিবন্ধে বলা হয়েছে, বলটি একেবারে নিখুঁত গোল না হলেও এই বুনো চেহারাই এর আকর্ষণের অংশ। আমার মনে হয়, শ্যাওলা ও বনসাইয়ের জগতে প্রবেশের জন্য এটি একটি সহজ প্রকল্প।
সূত্র: JardineriaOn
স্পেন ও সমগ্র ইউরোপে টেরারিয়াম সাজসজ্জা ও শিক্ষার একটি জনপ্রিয় প্রবণতা হয়ে উঠেছে, বিশেষ করে যারা কম যত্নের বিকল্প খুঁজছেন তাঁদের মধ্যে। JardineriaOn দেখছে কেন এগুলো ঘর ও অফিস দখল করছে।
নিবন্ধে দুই ধরনের কথা বলা হয়েছে। খোলা টেরারিয়ামে নিয়মিত পানি দিতে হয়, অন্যদিকে বন্ধ টেরারিয়াম নিজের পানি ও পুষ্টি পুনরায় ব্যবহার করে। খোলার জন্য সক্কুলেন্ট ও ক্যাকটাসের কথা বলা হয়েছে, আর বন্ধের জন্য শ্যাওলা, ফার্ন ও ফিটোনিয়া; মাংসাশী উদ্ভিদের কথাও আছে।
একটি তৈরি করতে কাচের পাত্র বেছে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে: বড় গাছের জন্য চওড়া মুখের, অথবা স্বয়ংসম্পূর্ণ বাস্তুতন্ত্রের জন্য সিল করা বোতল। এরপর পাথর বা নুড়ির নিষ্কাশন স্তর, পানি ছাঁকতে ও গন্ধ আটকাতে সক্রিয় কয়লা, এবং উপযুক্ত মাটি দিতে হবে। কাচ যাতে অতিরিক্ত গরম না হয় সেজন্য সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখতে হবে, আর পানি দিতে হবে পরিমিত: বন্ধ টেরারিয়ামে প্রায় দিতেই হয় না, খোলায় এক-দুই সপ্তাহে একবার।
সুবিধার মধ্যে আছে স্কুলে প্রাকৃতিক চক্র ও সালোকসংশ্লেষ বোঝাতে শিক্ষামূলক ব্যবহার, এবং গাছের সংস্পর্শের থেরাপিউটিক প্রভাব; তাই প্রবীণদের জন্য কর্মশালাও হয়। কাচের নিচের ছোট পৃথিবী, যা ধৈর্য ও পর্যবেক্ষণ শেখায়, এই ধারণাটি আমার ভালো লেগেছে।
সূত্র: JardineriaOn
Bonsai Tonight-এর Jonas Dupuich একটি Cryptomeria গাছের সৎ হালনাগাদ শেয়ার করেছেন, যেটি বহু বছর প্রায় একা ফেলে রাখা হয়েছিল। আগের হালনাগাদ ছিল ২০২০ সালে, যখন গাছটিতে প্রথমবার তার জড়ানো হয়েছিল, এরপর এটি বেশির ভাগই তত্ত্বাবধান ছাড়া বেড়ে উঠেছিল।
২০২৩ সালের অক্টোবরে, Essential Bonsai Book লেখার সময় তিনি এই গাছটিকে একটি কেস স্টাডি হিসেবে ব্যবহার করেছিলেন। একটি ছাঁটাই ও তার জড়ানোর সেশন একে ভালোভাবে গুছিয়ে দিয়েছিল, কারণ মূল কাঠামো আগে থেকেই ছিল। কিন্তু পরের তিন বছরে এটি আবার এলোমেলো হয়ে যায়। একবারে বেশি না কাটার জন্য তিনি আগের শৈলীতে ডালগুলো লম্বা রেখেছিলেন, এবং ২০২৬ সালের জুলাইয়ে স্পষ্ট হয় যে গাছের আকৃতিতে বড় ছাঁটাই দরকার।
বেশির ভাগ ছাঁটাই করেন স্বেচ্ছাসেবী Nicole ও Gianne। কাণ্ডের আকৃতি ও ডালের গভীরতা বিচার করতে গাছটির চার দিক থেকে ছবি তোলা হয়, এবং তিনটি বড় ডাল সরানো হয়: একটি বাঁদিক থেকে, দুটি ডানদিক থেকে। এরপর গাছে তার জড়ানো হয়, পাশ ও পিছনের ফাঁক ভরাতে প্রয়োজনীয় ডালগুলো রেখে, যাতে যেকোনো কোণ থেকে আকৃতি ভালো দেখায়।
শিক্ষা হলো, Cryptomeria-র আদর্শভাবে বৃদ্ধি অনুযায়ী বছরে এক বা দুবার ছাঁটাই দরকার। নিয়মিত যত্ন সহজ কিন্তু ক্লান্তিকর, আর ধারাবাহিক কাজ শেষ পর্যন্ত ফল দেয়। অবহেলা নিয়ে তাঁর খোলামেলা সুরটি আমার ভালো লেগেছে, যার সঙ্গে আমাদের অনেকেই নিজেদের মেলাতে পারবেন।
সূত্র: Bonsai Tonight
কখনো কখনো গাছ মূলত তার কাণ্ডের জন্যই কেনা হয়, এই জুনিপারও তার একটি উদাহরণ। Bonsai Empire ছয় বছর ধরে গাছটিকে অনুসরণ করেছে। কেনার সময় এটির বয়স ছিল প্রায় ২০ বছর এবং উপাদান হিসেবে নার্সারিতে আগেই প্রায় দশ বছর বেড়ে উঠেছিল। দাম পড়েছিল প্রায় ২০০ ডলার, যা একটি বড় বিনিয়োগ, এবং লেখকদের মতে শক্তপোক্ত কাণ্ড ও তার সুন্দর গতিই তা যথার্থ করে।
প্রথম বছরে অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া একটি ডাল সরিয়ে তার জায়গায় ছোট, তখনও নমনীয় ডাল বসানো হয়। গাছটি সুস্থ ছিল বলে প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পাতা সরানো হয়। ঝুলে থাকা কচি অঙ্কুর সরানো হয়, একই পুরুত্বের ডালের জোড়া বাছাই করা হয় এবং মূল ডাল থেকে ওপরের দিকে তার দিয়ে বাঁধা হয়, পাতলা ডালে পাতলা তার।
টব বদলের সময় নিষ্কাশন ছিদ্র জাল দিয়ে ঢাকা হয় এবং দুটি লম্বা তার দিয়ে গাছটিকে স্থির করা হয়। পুরনো, কালচে শিকড় সরানো হয়, আর নতুন উপকরণের মিশ্রণ তৈরি হয় আকাদামা, লাভা পাথর ও প্যুমিস দিয়ে। নার্সারির পুরনো জৈব মাটি পরের টব বদলগুলোতে ধীরে ধীরে সরানো হয়।
দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বছরে বছরে দুবার রক্ষণাবেক্ষণের ছাঁটাই ছাড়া তেমন কিছু করার ছিল না। পঞ্চম বছরে শাখাবিন্যাসের সূক্ষ্ম কাজ, নতুন করে তার বাঁধা এবং দ্বিতীয়বার টব বদল হয়। ষষ্ঠ বছরে গাছটিকে প্রায় সম্পূর্ণ মনে হয়।
আমার সবচেয়ে ভালো লাগে এই ধারণাটি যে বনসাই কখনো সত্যিকার অর্থে শেষ হয় না। আকর্ষণীয় বিষয় হলো ভিডিওর শিরোনামে ২৬ বছরের কথা আছে, যার মধ্যে সম্ভবত নার্সারির বছরগুলোও ধরা হয়েছে।
সূত্র: Bonsai Empire
কখনো কখনো গাছটি মূলত তার কাণ্ডের জন্যই কেনা হয়, আর এখানেও ঠিক তাই হয়েছে। Bonsai Empire প্রায় ২০ বছর বয়সী একটি জুনিপারকে অনুসরণ করেছে, যেটি প্রস্তুতির জন্য নার্সারিতে ইতিমধ্যে প্রায় দশ বছর বেড়ে উঠেছিল। গাছটির দাম পড়েছিল প্রায় ২০০ ডলার। নির্মাতারা একে একটি গুরুতর বিনিয়োগ বলেন, তবে তাঁদের মতে মোটা কাণ্ড ও তার সুন্দর গতিই এর মূল্য পুষিয়ে দেয়।
প্রথম স্টাইলিংয়ে অতিরিক্ত মোটা হয়ে যাওয়া একটি ডাল সরিয়ে তার জায়গায় আরও নমনীয়, তরুণ ডাল বসানো হয়। গাছটি সুস্থ থাকায় প্রায় ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ পাতা সরানো হয়েছিল। এরপর ঝুলে থাকা কচি ডাল ও নিচের দিকে বেড়ে ওঠা ছোট শাখাগুলো পরিষ্কার করা হয়, একই পুরুত্বের ডালগুলো জোড়ায় জোড়ায় তার দিয়ে বাঁধা হয়, এবং কাজটি মূল ডাল থেকে ওপরের দিকে এগিয়েছে, সরু ডালে সরু তার দিয়ে।
টবটিও মনোযোগ পেয়েছে: নিষ্কাশন ছিদ্রগুলো জাল দিয়ে ঢাকা হয়েছে এবং গাছটিকে শক্ত করে ধরে রাখতে দুটি লম্বা তার লাগানো হয়েছে। পুরনো, কালচে শিকড় সরানো হয়েছে, আর নতুন মাটি তৈরি হয়েছে আকাদামা, লাভা পাথর ও প্যুমিস দিয়ে। নার্সারির পুরনো জৈব মাটি পরবর্তী বারের টব বদলের সময় ধীরে ধীরে সরানো হয়, যাতে চাপ কম পড়ে।
দ্বিতীয় থেকে চতুর্থ বছরে বছরে দুবার রক্ষণাবেক্ষণের ছাঁটাই ছাড়া প্রায় কিছুই হয়নি। পঞ্চম বছরে শাখাবিন্যাসের পরিমার্জন, নতুন করে তার বাঁধা এবং দ্বিতীয় বার টব বদলানো হয়। ষষ্ঠ বছরে গাছটিকে প্রায় সম্পূর্ণ মনে হয়।
আমার ব্যক্তিগতভাবে সবচেয়ে ভালো লাগে এই বার্তাটি যে বনসাই কখনো সত্যিকার অর্থে শেষ হয় না। ভিডিওর শিরোনামে ২৬ বছরের কথা আছে, যার মধ্যে সম্ভবত নার্সারির বছরগুলোও ধরা হয়েছে।
সূত্র: Bonsai Empire
সস্তা নার্সারির চারা দিয়েই বেশিরভাগ মানুষ শুরু করে, তাই নবীনদের জন্য তৈরি এই স্প্রুস প্রকল্পটি আমার নজর কাড়ল। Bonsai Empire একটি স্থানীয় গার্ডেন সেন্টার থেকে প্রায় ১৫ ডলারে কেনা পাঁচ বছর বয়সী একটি Picea abies নিয়ে প্রায় চার বছর ধরে কাজ করেছে, যতক্ষণ না সেটি একটি আসল বনসাইয়ের মতো দেখাতে লাগল।
প্রথম ধাপ ছিল টব বদলানো। গাছটি দুর্বল, প্রধানত জৈব মাটিতে ছিল, তাই এটিকে আকাদামা, লাভা পাথর আর পিউমিসের মিশ্রণে নেওয়া হয়। ইচ্ছে করে একটি গোল টব বাছা হয়েছিল, যাতে গাছের সামনের দিকটি পরে ঠিক করা যায়, আর তখনও গাছটিকে আকার দেওয়া হয়নি। এই ধৈর্যটি আমার ভালো লেগেছে: কাটাকুটি শুরু হওয়ার আগে গাছটি মানিয়ে নেওয়ার সময় পায়।
প্রায় ছয় মাস পরে ছাঁটাই ও তার পেঁচানোর মাধ্যমে প্রথম আকার দেওয়া হয়, এবং বিকল্প খোলা রাখতে অনেক ডাল রাখা হয়। এক বছর পরে ডালগুলো আবার ছাঁটা ও আরও সূক্ষ্মভাবে পেঁচানো হয়, তখন প্রায় দুই বছরের পরিশ্রম জমেছে। এরপর গাছটিকে প্রায় দুই বছর শুধু বাড়তে দেওয়া হয়, যখন শিকড় টব ভরে ফেলে এবং ডালগুলো মোটা ও শাখাযুক্ত হয়।
দ্বিতীয়বার টব বদলের সময় পুরনো মাটি সরানো হয়, শিকড় ছাঁটা হয় এবং গাছটিকে নতুন মাটিতে ও চূড়ান্ত নকশার উপযোগী টবে রাখা হয়। লেখকরা বলেন, একবারে বড় পরিবর্তনের বদলে প্রতিবার সামান্য কাজ করার ফলে প্রকল্পটি এগিয়েছে এবং গাছটিও দ্রুত বেড়েছে।
আমার কাছে এটি আশ্বস্তকর মনে হয়। শুরু করতে দামি প্রি-বনসাইয়ের দরকার নেই, আর স্প্রুস এমন একটি প্রজাতি যা অনেক নবীন উপেক্ষা করে। এই গল্পের শিক্ষা মূলত সংযম এবং সঠিক সময় বেছে নেওয়ার বিষয়ে।
সূত্র: Bonsai Empire
কোট দাজুরের বনসাই-প্রেমীরা এই তারিখটি নিজেদের ক্যালেন্ডারে লিখে রাখতে পারেন। Art Bonsaï Club নামের একটি সংগঠন ২০২৬ সালের ২৪ ও ২৫ অক্টোবর, অর্থাৎ শনিবার ও রবিবার, সাঁ-জাঁ-ক্যাপ-ফেরাতে একটি আঞ্চলিক প্রদর্শনীর আয়োজন করছে।
অনুষ্ঠানটি সাঁ-জাঁ-ক্যাপ-ফেরার Espaces Les Néréides et Neptune-এ অনুষ্ঠিত হবে। প্রবেশ বিনামূল্যে, তাই কোনো বাধ্যবাধকতা ছাড়াই এই শিল্পের সঙ্গে পরিচিত হওয়ার ভালো সুযোগ, আপনি কৌতূহলী হোন বা ইতিমধ্যেই অনুরাগী।
অনুষ্ঠানে রয়েছে প্রদর্শনী, একটি প্রতিযোগিতা, বিক্রয়, প্রদর্শনী ও বক্তৃতা। সম্মানিত অতিথি ঝ্যাঁ-পিয়েরে কার্দিনাল। অনুষ্ঠানের পাতায় সঠিক সময় উল্লেখ নেই এবং বলা হয়েছে সময়ের নিশ্চয়তা নেই, তাই যাওয়ার আগে সংগঠনের সঙ্গে যোগাযোগ করে নেওয়াই ভালো।
ব্যক্তিগতভাবে আমি এমন আঞ্চলিক প্রদর্শনী পছন্দ করি: কয়েক দশক ধরে আকৃতি পাওয়া গাছ কাছ থেকে দেখা যায়, আর প্রদর্শনে দেখা যায় একটি সাধারণ গুল্ম কীভাবে ধীরে ধীরে রূপ নেয়। স্থানীয় উৎসাহীদের সঙ্গে কথা বলারও এটি ভালো সুযোগ।
সূত্র: Côte d'Azur France
বিশ্ব বনসাই সম্মেলন এমন বিরল আয়োজনগুলোর একটি, যেখানে বনসাই জগৎ সত্যিকারের আন্তর্জাতিক পরিসরে একত্রিত হয়। কুয়ালালামপুরে অনুষ্ঠিত দশম সংস্করণের জন্য Bonsai Empire মালয়েশিয়ায় যায় এবং ইউরোপ বা যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত যা দেখা যায় তার থেকে আলাদা একটি প্রদর্শনীর প্রতিবেদন নিয়ে ফিরে আসে।
সম্মেলনটি আয়োজন করে WBFF, যার মূল ভাবনা হলো বনসাইয়ের মাধ্যমে বিশ্বশান্তি। এটি প্রতি চার বছর পর অনুষ্ঠিত হয়; আগের সংস্করণগুলো হয়েছিল জাপান, যুক্তরাষ্ট্র, কোরিয়া, জার্মানি, পুয়ের্তো রিকো, চীন ও অস্ট্রেলিয়ায়। এই সংস্করণের থিম ছিল "বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য", এবং ২০৩০ সালে পরবর্তী সম্মেলন নেদারল্যান্ডসের মাস্ট্রিখটে পরিকল্পিত।
প্রদর্শনীটিই ছিল অনুষ্ঠানের কেন্দ্রবিন্দু, যেখানে ১৫০টিরও বেশি বনসাই প্রদর্শিত হয়। ফাইকাস, Wrightia ও Bucida-র মতো গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রজাতিগুলো বিশাল কাণ্ড, বায়বীয় শিকড়, প্রাকৃতিকভাবে শক্তিশালী গোড়া এবং সূক্ষ্মভাবে গড়া মুকুট দেখাচ্ছিল। দশটি দেশের ৬৩টি পাথর নিয়ে একটি আন্তর্জাতিক সুইসেকি প্রদর্শনীও ছিল।
আমার কাছে আকর্ষণীয় লাগে যে শীতল-অঞ্চলের প্রজাতির সঙ্গে এত গভীরভাবে জড়িত একটি ঐতিহ্য গ্রীষ্মমণ্ডলে এতটা ভিন্ন দেখায়। নিবন্ধে বিজয়ী গাছগুলোর সঙ্গে ছবি ও অনুষ্ঠানের একটি পূর্ণ ভিডিও দেখানো হয়েছে।
সূত্র: Bonsai Empire
জুলাইয়ের শেষে, মাদিউন রিজেন্সির কারুবানের Pendopo Ronggo Djumeno প্রাঙ্গণ ছোট ছোট গাছে ভরে গিয়েছিল। তৃতীয় Madiun Nyawiji Bonsai Festival ২০২৬ সালের ২৫ জুলাই থেকে ১ আগস্ট পর্যন্ত আট দিন ধরে চলে, আর আমি প্রতিবেদনটি হাসিমুখে পড়েছি।
রিজেন্সি পর্যায়ের একটি উৎসবের জন্য সংখ্যাটা বড়। ৪০৪টি বনসাই অংশ নিয়েছে, যার মধ্যে ২৫৪টি নিয়মিত শ্রেণিতে এবং ১৫০টি golden small শ্রেণিতে। অংশগ্রহণকারীরা মাদিউন থেকে এবং পূর্ব ও মধ্য জাভার বহু এলাকা থেকে এসেছেন। অনুষ্ঠানটি শুধু বিচারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না: জনসাধারণের জন্য খোলা প্রদর্শনী, বনসাই গড়ার প্রশিক্ষণ এবং শোভাবর্ধক গাছের বাজারও ছিল।
সেখানে উপস্থিত দুজনের কথা আমার সবচেয়ে ভালো লেগেছে। দর্শনার্থী Lulu Humaira বলেছেন, পরিণত বনসাইয়ের প্রতি তাঁর আকর্ষণ বেশি, কারণ এগুলোর যত্নে সময়, ধৈর্য ও অধ্যবসায় লাগে। আমি যে বাক্যটি লিখে রেখেছি: প্রক্রিয়াটি উপভোগ করুন, কারণ কোনো প্রক্রিয়াই তাৎক্ষণিক নয়। এটি এই শখের জন্য যেমন মানানসই, তেমনি যাঁরা টেরারিয়াম সাজান বা ধীরে ধীরে শ্যাওলা গজান, তাঁদের জন্যও।
আয়োজক কমিটির সভাপতি Yanuar Ristianto বলেছেন, এই উৎসব কেবল একটি প্রতিযোগিতা নয়। তাঁর মতে, এটি বনসাই শিল্পের পরিচিতি তুলে ধরার পাশাপাশি মাদিউন রিজেন্সিতে শোভাবর্ধক গাছের সৃজনশীল অর্থনৈতিক সুযোগ খুলে দেওয়ারও একটি উপায়। এলাকার বনসাই-প্রেমীদের উদ্যম আবার জাগবে, এই আশাও তিনি রাখেন।
আমার কাছে এমন খবর উৎসাহজনক, কারণ এটি দেখায় যে স্থানীয় বনসাই সম্প্রদায়গুলো এখনও জীবন্ত এবং ধীরে ধীরে বাড়ছে, শুধু বড় শহরে নয়। আমি চাই এই উৎসব প্রতি বছরের একটি অনুষ্ঠানে পরিণত হোক।
সূত্র: RRI.co.id (মাদিউন)